জগন্নাথ দেব এবং রথযাত্রা

Image

Image

জগন্নাথ দেব কে?

জগন্নাথ (জগৎ + নাথ) শব্দের অর্থ "জগতের অধিপতি" বা "বিশ্বের প্রভু"। হিন্দু ধর্মে জগন্নাথকে প্রধানত ভগবান বিষ্ণু বা কৃষ্ণের একটি বিশেষ রূপ হিসেবে পূজা করা হয়। ওড়িশার পুরীর Jagannath Temple-এ তাঁর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মন্দির অবস্থিত।

জগন্নাথের সঙ্গে একই মন্দিরে আরও দুই দেবতার পূজা হয়:

  • বলভদ্র (বলরাম)
  • সুভদ্রা

তিনটি কাঠের মূর্তি পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত থাকে, যা হিন্দু মন্দিরগুলোর প্রচলিত পাথরের মূর্তির তুলনায় ব্যতিক্রমী।


জগন্নাথের মূর্তি এমন অদ্ভুত কেন?

অনেকেই লক্ষ্য করেন, জগন্নাথের মূর্তির:

  • বড় বড় গোল চোখ,
  • হাত-পা অসম্পূর্ণ,
  • কাঠের তৈরি দেহ।

এ নিয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে।

১. পৌরাণিক কাহিনী

সবচেয়ে জনপ্রিয় কাহিনী অনুযায়ী, বিশ্বকর্মা একজন বৃদ্ধ কারিগরের রূপ ধরে মূর্তি নির্মাণে সম্মত হন। শর্ত ছিল নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কেউ দরজা খুলবে না। কিন্তু রাজা অধৈর্য হয়ে দরজা খুলে ফেললে কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় থেমে যায়। সেই অসম্পূর্ণ মূর্তিকেই দেবতার ইচ্ছা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়।

২. দার্শনিক ব্যাখ্যা

কিছু গবেষকের মতে, এই রূপের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে ঈশ্বর কোনো নির্দিষ্ট মানব আকৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নন; তিনি সর্বজনীন ও সর্বব্যাপী।

৩. ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা

ইতিহাসবিদদের একটি অংশ মনে করেন, জগন্নাথ উপাসনার সঙ্গে প্রাচীন ওড়িশার আদিবাসী দেবতা পূজার ঐতিহ্য যুক্ত হয়েছে। পরে বৈষ্ণব ধর্মের সঙ্গে এর সমন্বয় ঘটে।


জগন্নাথের ইতিহাস

ঐতিহাসিকভাবে বর্তমান মন্দিরটি ১২শ শতকে অনন্তবর্মণ চোড়গঙ্গ দেব নির্মাণ শুরু করেন এবং পরবর্তীতে তা সম্পূর্ণ হয়।

তবে জগন্নাথ উপাসনা এরও বহু শতাব্দী আগে থেকে প্রচলিত ছিল বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে ধারণা করা হয়।

এই উপাসনার মধ্যে একাধিক ধারার প্রভাব দেখা যায়:

  • বৈষ্ণব
  • শৈব
  • শাক্ত
  • বৌদ্ধ
  • আদিবাসী (বিশেষত সাভারা সম্প্রদায়)

এই কারণে জগন্নাথকে অনেকেই ভারতের অন্যতম সমন্বয়বাদী ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতীক মনে করেন।


রথযাত্রা কী?

Image

Image

Image

Image

রথযাত্রা হলো জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার বার্ষিক শোভাযাত্রা।

এ সময় দেবতাদের বিশাল কাঠের রথে বসিয়ে মূল মন্দির থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরের Gundicha Temple-এ নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রায় ৭ দিন পরে তাঁরা আবার মূল মন্দিরে ফিরে আসেন। এই প্রত্যাবর্তনকে বাহুদা যাত্রা বলা হয়।


তিনটি রথ

প্রতিবছর নতুন কাঠ দিয়ে তিনটি নতুন রথ তৈরি করা হয়।

দেবতা রথের নাম
জগন্নাথ নন্দিঘোষ
বলভদ্র তালধ্বজ
সুভদ্রা দর্পদলন (দেবদলন নামেও পরিচিত)

বিশাল দড়ি দিয়ে হাজার হাজার ভক্ত রথ টেনে নিয়ে যান।


কেন রথযাত্রা হয়?

বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যাখ্যা রয়েছে।

১. গুণ্ডিচা মন্দিরে মাতৃগৃহ ভ্রমণ

একটি জনপ্রিয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জগন্নাথ প্রতিবছর তাঁর মাসির বাড়ি বা মাতৃগৃহে বেড়াতে যান।

২. সকল মানুষের জন্য দর্শনের সুযোগ

পুরীর মূল মন্দিরে ঐতিহ্যগতভাবে কেবল হিন্দুদের প্রবেশের অনুমতি রয়েছে। রথযাত্রার সময় দেবতারা মন্দিরের বাইরে আসেন, ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আগত অসংখ্য মানুষ তাঁদের দর্শন করতে পারেন।

৩. ভক্তির প্রতীক

বৈষ্ণব দর্শনে রথযাত্রা ঈশ্বর ও ভক্তের মিলনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।


রথ টানাকে এত পুণ্য মনে করা হয় কেন?

হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী:

  • ঈশ্বরের সেবা করা,
  • তাঁর রথ টানা,
  • তাঁর দর্শন করা

—এগুলো অত্যন্ত পুণ্যের কাজ হিসেবে বিবেচিত।

তবে এটি একটি ধর্মীয় বিশ্বাস, ঐতিহাসিকভাবে যাচাইযোগ্য ঘটনা নয়।


রথযাত্রার সঙ্গে চৈতন্য মহাপ্রভুর সম্পর্ক

চৈতন্য মহাপ্রভু পুরীতে বহু বছর অবস্থান করেছিলেন।

তিনি রথযাত্রায় অংশগ্রহণ করতেন এবং তাঁর ভক্তিমূলক নৃত্য ও কীর্তনের কারণে রথযাত্রা বৈষ্ণব সমাজে আরও ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

বাংলা অঞ্চলে রথযাত্রা জনপ্রিয় হওয়ার পেছনেও তাঁর আন্দোলনের বড় ভূমিকা রয়েছে।


রথযাত্রা শুধু পুরীতেই হয়?

না।

ভারত, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশে রথযাত্রা পালিত হয়।

বাংলাদেশে বিশেষ করে:

  • ঢাকা
  • চট্টগ্রাম
  • খুলনা
  • যশোর
  • বিভিন্ন ইসকন (ISKCON) মন্দির
  • সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরসমূহ

রথযাত্রা উদযাপন করা হয়।


রথযাত্রা কবে হয়?

হিন্দু চান্দ্র পঞ্জিকা অনুযায়ী আষাঢ় মাসের শুক্ল পক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। তাই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে প্রতি বছর তারিখ পরিবর্তিত হয়।


সংক্ষেপে

  • জগন্নাথ অর্থ "জগতের অধিপতি"; তাঁকে প্রধানত ভগবান কৃষ্ণ/বিষ্ণুর এক বিশেষ রূপ হিসেবে পূজা করা হয়।
  • তাঁর সঙ্গে বলভদ্র ও সুভদ্রা একই মন্দিরে পূজিত হন।
  • জগন্নাথের কাঠের মূর্তি ও তার বিশেষ রূপের পেছনে পৌরাণিক, দার্শনিক এবং ঐতিহাসিক—তিন ধরনের ব্যাখ্যা রয়েছে।
  • রথযাত্রা হলো এই তিন দেবতার বার্ষিক রথে করে গুণ্ডিচা মন্দিরে গমন ও পুনরাগমনের উৎসব।
  • ধর্মীয় দৃষ্টিতে এটি ভক্তি, ঈশ্বরের সান্নিধ্য ও সর্বজনীন দর্শনের প্রতীক; ঐতিহাসিকভাবে এটি ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ ধর্মীয় উৎসবগুলোর একটি।

বলভদ্র (বলরাম) ও সুভদ্রা কারা?

হিন্দু ধর্মগ্রন্থ, বিশেষ করে মহাভারত, ভাগবত পুরাণ এবং অন্যান্য বৈষ্ণব গ্রন্থ অনুযায়ী, বলভদ্র (বলরাম) ও সুভদ্রা হলেন ভগবান কৃষ্ণের সহোদর।

পারিবারিক সম্পর্কটি সংক্ষেপে এমন:

  • পিতা: বসুদেব
  • মাতা (কৃষ্ণ): দেবকী
  • মাতা (বলরাম): রোহিণী

অর্থাৎ,

  • বলরাম কৃষ্ণের বড় ভাই (বৈমাত্রেয় ভাই)
  • সুভদ্রা কৃষ্ণের বোন

বলভদ্র (বলরাম) কে?

বলরাম, যিনি জগন্নাথ উপাসনায় বলভদ্র নামে পরিচিত, কৃষ্ণের বড় ভাই।

তাঁর কয়েকটি বৈশিষ্ট্য:

  • শক্তি, সাহস ও কৃষির প্রতীক।
  • তাঁর প্রধান অস্ত্র লাঙল (হাল) এবং গদা।
  • অনেক বৈষ্ণব মতবাদে তাঁকে শেষনাগ-এর অবতার বা প্রকাশরূপ হিসেবে মানা হয়।
  • কৃষ্ণের জীবনের বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় তিনি সহচর ছিলেন।

জগন্নাথ মন্দিরে বলভদ্রের মূর্তি সাধারণত সাদা বর্ণের।


সুভদ্রা কে?

সুভদ্রা কৃষ্ণ ও বলরামের বোন।

মহাভারতে তাঁর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে কারণ:

  • তিনি অর্জুন-এর স্ত্রী।
  • তাঁদের পুত্র ছিলেন অভিমন্যু।
  • অভিমন্যুর পুত্র পরীক্ষিত-এর মাধ্যমে কুরু বংশের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

জগন্নাথ মন্দিরে সুভদ্রার মূর্তি সাধারণত হলুদ বা গেরুয়া আভাযুক্ত।


জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা একসঙ্গে কেন?

এ নিয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে।

১. পারিবারিক ঐক্যের প্রতীক

সবচেয়ে প্রচলিত ব্যাখ্যা হলো, তিন ভাইবোনের পারিবারিক বন্ধনকে একসঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে।

২. বৈষ্ণব ধর্মীয় ব্যাখ্যা

বৈষ্ণবদের মতে:

  • জগন্নাথ (কৃষ্ণ) ঈশ্বরের করুণার প্রতীক,
  • বলভদ্র শক্তি ও ধর্মরক্ষার প্রতীক,
  • সুভদ্রা শুভশক্তি, মঙ্গল ও করুণার প্রতীক।

৩. ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা

কিছু ইতিহাসবিদের মতে, পুরীর জগন্নাথ উপাসনায় প্রাচীন ওড়িশার বিভিন্ন আঞ্চলিক দেবতার উপাসনা ধীরে ধীরে কৃষ্ণকেন্দ্রিক বৈষ্ণব ধর্মের সঙ্গে মিশে যায়। ফলে তিনটি মূর্তির বর্তমান রূপ ও উপাসনা বিকশিত হয়েছে।


পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে তিন দেবতার অবস্থান

মন্দিরে সাধারণত:

  • বামে বলভদ্র
  • মাঝখানে সুভদ্রা
  • ডানে জগন্নাথ

এই বিন্যাস বহু শতাব্দী ধরে অনুসৃত হয়ে আসছে।

সংক্ষেপে

নাম সম্পর্ক প্রধান পরিচয়
বলভদ্র (বলরাম) কৃষ্ণের বড় ভাই শক্তি, কৃষি, ধর্মরক্ষা
সুভদ্রা কৃষ্ণের বোন অর্জুনের স্ত্রী, অভিমন্যুর মা
জগন্নাথ কৃষ্ণের বিশেষ রূপ জগতের অধিপতি

জগন্নাথ উপাসনার বিশেষত্ব হলো, এখানে এই তিনজনকে কেবল পৌরাণিক চরিত্র হিসেবে নয়, বরং একসঙ্গে একটি আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবেও পূজা করা হয়।

The Buffalo named Donal/d Trum/p – Eid 2026

বাংলাদেশের একটি বিরল অ্যালবিনো মহিষ, যাকে মানুষ “ডোনাল্ড ট্রাম্প মহিষ” নামে ডাকছে, গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিকভাবে ভাইরাল হয়ে যায়। এর কপালের সোনালি বা হালকা রঙের চুল অনেকের কাছে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুলের স্টাইলের মতো মনে হওয়ায় এই নামটি জনপ্রিয় হয়।

মূল ঘটনা

  • প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই মহিষটি নারায়ণগঞ্জের একটি খামারে লালন-পালন করা হচ্ছিল।
  • সামাজিক মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে মানুষ এটি দেখতে আসতে শুরু করে।
  • খামারের মালিক জানান, মহিষটির কপালের সোনালি চুলের কারণে তার ছোট ভাই মজা করে “ডোনাল্ড ট্রাম্প” নামটি দেয়।
  • প্রথমে মহিষটি ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য বিক্রি করা হয়েছিল।
  • পরে এটি আন্তর্জাতিকভাবে ভাইরাল হয়ে গেলে নিরাপত্তা ও জনআগ্রহের বিষয় বিবেচনা করে সরকার কোরবানি স্থগিত করে।
  • ক্রেতাকে টাকা ফেরত দেওয়া হয় এবং মহিষটিকে ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয়।
  • বিশেষজ্ঞরা জানান, অ্যালবিনো মহিষ বাংলাদেশে অত্যন্ত বিরল এবং এগুলোর জন্য বিশেষ যত্ন প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

রয়টার্স, স্কাই নিউজ, নিউ ইয়র্ক পোস্ট, টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সামাজিক মাধ্যম ও রেডিটেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা, মিম এবং হাস্যরস ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই আনন্দ প্রকাশ করেন যে মহিষটি শেষ পর্যন্ত কোরবানি থেকে রক্ষা পেয়েছে।

কেন এত ভাইরাল হলো?

এই ঘটনার ভাইরাল হওয়ার পেছনে কয়েকটি বিষয় কাজ করেছে—

  • বিরল অ্যালবিনো মহিষ
  • ট্রাম্পের মতো চুলের স্টাইল
  • মজার নামকরণ
  • বাংলাদেশের ঈদ ও পশুর হাট সংস্কৃতি
  • শেষ মুহূর্তে কোরবানি থেকে রক্ষা পাওয়ার ঘটনা

তথ্যসূত্র

শখ

অনেক কিছুর শখ ছিল,
কিছু ভুলে গেছি
কিছু এখনো মনে গেথে রেখেছি।
কিছু কিছু এখন অবান্তর, অপাংক্তেয়
কিংবা হাস্যকর লাগে।

শখ ছিল নদীর পাড়ে একটা আধুনিক বাড়ি বানাব
কিন্তু বাড়ির ভেতর সব কিছু হবে শৈশব এর মত।
আমি বুঝে গেছি এটা হবার নয়।
আমরা আর পুরাতন সময়ে বাস করতে পারি না।
যদি বাড়িও হয় তবুও নদীটা মরে যায়!

মোটিফ, মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিমা

আনন্দ/মঙ্গল/বৈশাখী শোভাযাত্রার মিছিলে ব্যবহৃত শোভাবর্ধনকারী জিনিস গুলোতে ইদানিং ‘মোটিফ’ বলা হচ্ছে। এই শব্দটা আমি শুনতেছি সম্ভবত গত কয়েকবছর। আগে হয়তো শুধুমাত্র শিল্পমহলে আবব্দ ছিল।

চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞাসা করলাম মোটিফ, মূর্তি, ভার্স্কর্য, প্রতিমা ইত্যাদির পার্থক্য কি। আমাকে যা জানাল নিম্নরুপঃ

নিচে মোটিফ, মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিমা শব্দগুলোর আলাদা আলাদা সংজ্ঞা দেওয়া হলো:

১. মোটিফঃ কোনো শিল্পকর্ম, নকশা, সাহিত্য বা সংগীতে বারবার ব্যবহৃত বিশেষ ভাব, চিহ্ন, নকশা বা প্রতীককে মোটিফ বলা হয়। এটি মূল ভাব বা সৌন্দর্য প্রকাশে সহায়তা করে।

২. মূর্তিঃ মানুষ, দেবদেবী, প্রাণী বা কোনো বস্তুর আকৃতি অনুসারে তৈরি ত্রিমাত্রিক অবয়বকে মূর্তি বলা হয়। এটি পাথর, মাটি, ধাতু, কাঠ ইত্যাদি দিয়ে তৈরি হতে পারে।

৩. ভাস্কর্যঃ শিল্পসৌন্দর্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে খোদাই, ঢালাই বা গঠন প্রক্রিয়ায় তৈরি ত্রিমাত্রিক শিল্পকর্মকে ভাস্কর্য বলা হয়। এটি শুধু মূর্তি নয়, বিমূর্ত শিল্পরূপও হতে পারে।

৪. প্রতিমাঃ বিশেষ করে পূজা-অর্চনার জন্য দেবদেবীর রূপে নির্মিত মূর্তি বা আরাধ্য অবয়বকে প্রতিমা বলা হয়। ধর্মীয় ও আচারিক গুরুত্ব এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।

সংক্ষেপে পার্থক্য
মোটিফ = নকশা বা ভাবের পুনরাবৃত্ত উপাদান
মূর্তি = কোনো কিছুর গড়া অবয়ব
ভাস্কর্য = শিল্পমানসম্পন্ন ত্রিমাত্রিক নির্মাণ
প্রতিমা = পূজার উদ্দেশ্যে নির্মিত দেবমূর্তি

শুভ বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩

বাংলা ১২ মাসের নাম আজকে আবার মুখস্থ করলাম। আমি বেশির ভাগ সময় ১১ মাসের নাম বলতে পারি। ছোটবেলা থেকে একটা মাস এর নাম আমি প্রায় ভুলে যাই। মানে ঐ মাসটা যে আছে এটা আমি জানি কিন্তু আমি যখন পরপর বলতে থাকি ঐ মাসটা আমি কোন মাসের পর হবে তা ভুলে যায়। সেই সৌভাগ্যবান মাসটা হচ্ছে, ‘অগ্রহায়ণ’

বাংলা ১২ মাসের নাম নিয়ে চ্যাটজিপিটি দিয়ে একটা ছড়া লেখালামঃ

//বারো মাসের রঙিন রাগিণী

বৈশাখ এলো ঝড়ের বেগে, নতুন আশার গান,
জ্যৈষ্ঠ মাসে রোদ ঝলমলে, পাকে আম-কাঁঠাল ধান।
আষাঢ় নামে মেঘের ডাকে, নামে ঝুম বৃষ্টি,
শ্রাবণ জুড়ে নদী ভরে, সবুজ মাঠে সৃষ্টি।

ভাদ্র মাসে কাশফুল দোলে, হাওয়ায় মিষ্টি সুর,
আশ্বিন এলে শিউলি হাসে, সকাল হয় ভরপুর।
কার্তিক মাসে শিশির পড়ে, ভোরটা লাগে ঠান্ডা,
অগ্রহায়ণ ধানের হাসি, কৃষক মনে ফাঁদা।

পৌষ মাসে পিঠার ঘ্রাণে, ঘরটা ভরে যায়,
মাঘের শীতে কাঁপে সবাই, আগুন পোহায় হায়।
ফাল্গুন এলে রঙের মেলা, ফুলে ফুলে বন,
চৈত্র শেষে বছর বলে—আসছে নব জীবন।

২৫শে মার্চ , ২৬শে মার্চ – ২০২৬

গতকাল ২৫শে মার্চ গেল, আজকে ২৬শে মার্চ আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস।

আপনারা যানেন পদ্মা সেতু হয়ে যে রাস্তা দিয়ে ঢাকা যাতায়াত করা হয় সেই রাস্তায় ঘাড়ির সর্বোচ্চ গতি ৮০। মাঝে মাঝে রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ গতি বেশির জন্য জরিমানা করে। এখন প্রশ্ন করতে পারেন, কোন গাড়ি ৮০ এর উপর টানছে কিনা এইটা কি ট্রাফিক পুলিশ চোখের আন্ধাজে বুঝে? উত্তর হচ্ছে, না। একটা যন্ত্র আছে যা দিয়ে পরিমাপ করে।

এখন আপনি আবার পালটা প্রশ্ন করতে পারেন, ৭১ এ ৩০ লাখ লোক মারা গেছিল এইটা কি একটা একটা করে কেউ গুনছে। না দাদা ভাই, এই ভাবে কেউ গুনে নাই। কিন্তু এই গুনারও কিছু নিয়ম আছে। এইটা গুনে ৩০ লাখ একজন কম হলেও এইটা ৩০ লাখ, এক লাখ কম হলেও এইটা ৩০ লাখ। এই সব নিয়ে বিস্তর গবেষনা, লেখা, বই, ব্লগ আর্টিকেল আছে। আপনাকে খালি পড়তে হবে।

আপনি আবার আমারে থামায় জিজ্ঞাসা করতে পারেন, স্বাধীনতার ঘোষনা কে দিয়েছে, কেন দিয়েছে, কোন দিন দিয়েছে, কবে কবে কয় বার করে দিয়ে, প্রথম কে দিয়ে, ২য় কে দিয়েছে ইত্যাদি। এইগুলো নিয়ে পড়ালেখা করেন।

আরো অনেক প্রশ্ন করতে পারেন কিন্তু প্রশ্ন না করে উত্তর করেন, মানে নিজে নিজে উত্তর খুঁজেন। বলতে পারেন, ফাজলামি করেন, এত কিছু কেমন পড়ব। আরে ভাই আমরা যখন ২০০২ সালে প্রোগ্রামিং শেখা শুরু করেছিলাম আমরা প্রোগ্রামিং এর বই পড়ে পড়ে শিখেছিলাম। এখন তোমরা বই যে পড়া লাখে এটা শুনেই হাসো। এখন মোটা কও আর চিকন কও যেই দাগেই কও, জানতে হলে পড়তে হবে।

তবে সঠিক ভাবে জানার জন্য তুমি কোন রাজনৈতিক দল কর বা কোন দল এর আদর্শ দ্বারা প্রভাবিত কিংবা কোন দলের প্রতি তোমার সফটকর্নার আছে এইটা এক পাশে রেখে পড়, তাইলেই বুঝতে পারবা। ইতিহাস কিন্তু ইতিহাস, এইটা কিন্তু নিজের চিন্তাকে ইতিহাস হিসাবে সেট করা না। ধর, তুমি জানো তোমার বাবা বিরাট ভালো মানুষ কিন্তু ইতিহাসে আছে তিনি চোর ছিলেন, তাইলে তিনি চোরই ছিলেন। জোর করে ইতিহাসে নিজের বাবাকে ভালো মানুষ সেট করা যায় না।
এখন কইতে পারেন কোন ইতিহাস ঠিক? এটা বুঝার জন্য নিজের মনকে ব্যবহার কর, নিজের মননকে কাজে লাগাও। অন্যের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে নিজের মননকে প্রশ্রয় দাও।

পুনশ্চঃ গাড়ির গত ট্রাফিক পুলিশ কিন্তু একটা যন্ত্র দিয়ে দেখে মাপে। প্রতিটি জিনিস জানা বুঝার কিছু তরিকা আছে সেই তরিকায় পড় এবং জানো।

ওল চাষের সার ব্যবস্থাপনা

ওল (Ol / Elephant Foot Yam) চাষে সঠিক সার ব্যবস্থাপনা খুব গুরুত্বপূর্ণ—বিশেষ করে ভালো কন্দ (মূল) বড় করার জন্য। নিচে সহজভাবে সম্পূর্ণ সার পরিকল্পনা দিলাম—


🌿 ওল চাষের সার ব্যবস্থাপনা

✅ ১. জমি প্রস্তুতির সময় (বেসাল ডোজ)

রোপণের আগে মাটির সাথে মিশিয়ে দিন—

  • গোবর/কম্পোস্ট: ৮০–১০০ কেজি/শতক
  • টিএসপি: ৫০০–৬০০ গ্রাম
  • এমওপি (পটাশ): ৩০০–৩৫০ গ্রাম (অর্ধেক)
  • জিপসাম: ২০০–৩০০ গ্রাম

👉 এগুলো মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে উঁচু বেডে দিন


✅ ২. রোপণের ২৫–৩০ দিন পরে

  • ইউরিয়া: ৩০০–৩৫০ গ্রাম/শতক
  • এমওপি (বাকি অর্ধেক): ৩০০–৩৫০ গ্রাম

👉 গাছের গোড়া থেকে একটু দূরে দিয়ে মাটি চাপা দিন


✅ ৩. রোপণের ৫০–৬০ দিন পরে

  • ইউরিয়া: ৩০০–৩৫০ গ্রাম

👉 এই সময় গাছ দ্রুত বাড়ে, তাই নাইট্রোজেন দরকার


✅ ৪. রোপণের ৮০–৯০ দিন পরে

  • ইউরিয়া: ২০০–২৫০ গ্রাম
  • চাইলে পটাশ (এমওপি): ১০০–১৫০ গ্রাম

👉 এতে কন্দ বড় ও শক্ত হয়


🧩 সার প্রয়োগের নিয়ম

  • সার সরাসরি গাছের গোঁড়ায় না দিয়ে ৩–৪ ইঞ্চি দূরে দিন
  • সার দেওয়ার পর মাটি চাপা দিন
  • প্রয়োজনে হালকা সেচ দিন
  • আগাছা পরিষ্কার করে সার দিন

🌱 জৈব ও অতিরিক্ত পুষ্টি

  • ভার্মি কম্পোস্ট: ২০–৩০ কেজি/শতক (অতিরিক্ত দিলে ভালো)
  • নিমখোল: ৫–৭ কেজি/শতক
  • ট্রাইকোডার্মা: কন্দ পচা কমাতে

⚡ গুরুত্বপূর্ণ টিপস

  • ওল গাছ পটাশ বেশি পছন্দ করে → তাই পটাশ কম দেবেন না
  • বেশি ইউরিয়া দিলে গাছ বড় হবে, কিন্তু কন্দ ছোট থাকবে
  • পানি জমে থাকলে সার নষ্ট হবে + কন্দ পচবে

⏱️ সার দেওয়ার সারাংশ (সহজভাবে)

  • রোপণের আগে: সব জৈব + TSP + জিপসাম + অর্ধেক পটাশ
  • ৩০ দিন: ইউরিয়া + বাকি পটাশ
  • ৬০ দিন: ইউরিয়া
  • ৯০ দিন: ইউরিয়া + একটু পটাশ

ওল (Ol) চাষের সম্পূর্ণ দিনভিত্তিক ক্যালেন্ডার এমনভাবে সাজালাম, যাতে মাঠে সহজে ফলো করতে পারো।


🌱 ওল চাষ ক্যালেন্ডার (দিনভিত্তিক)

🗓️ দিন ০ (রোপণের দিন)

  • কন্দ (বীজ) রোপণ
  • উঁচু বেডে লাগানো ভালো
  • হালকা সেচ দিন
  • সার দেবেন না (আগেই বেসাল সার দেওয়া থাকবে)

👉 বেসাল সার (রোপণের আগে):

  • গোবর: ৮০–১০০ কেজি/শতক
  • টিএসপি: ৫০০–৬০০ গ্রাম
  • জিপসাম: ২০০–৩০০ গ্রাম
  • এমওপি: অর্ধেক

🗓️ দিন ১০–১৫

  • অঙ্কুর বের হবে
  • আগাছা পরিষ্কার
  • পানি জমে আছে কিনা দেখুন
  • কোন সার নয়

🗓️ দিন ২৫–৩০ (প্রথম সার)

  • ইউরিয়া: ৩০০–৩৫০ গ্রাম/শতক
  • এমওপি (বাকি অর্ধেক): ৩০০–৩৫০ গ্রাম

👉 গাছের গোড়া থেকে দূরে দিয়ে মাটি চাপা দিন


🗓️ দিন ৪৫–৫০

  • আগাছা পরিষ্কার
  • মাটি নরম করা (কুপানো)
  • হালকা সেচ

👉 সার না দিলেও চলবে (ঐচ্ছিক হালকা ইউরিয়া ১০০–১৫০ গ্রাম)


🗓️ দিন ৫৫–৬০ (দ্বিতীয় সার)

  • ইউরিয়া: ৩০০–৩৫০ গ্রাম

👉 এই সময় গাছ দ্রুত বাড়ে


🗓️ দিন ৭৫–৮০

  • মাটিচাপা (earthing up) দিন
  • আগাছা পরিষ্কার
  • পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করুন

🗓️ দিন ৮৫–৯০ (তৃতীয় সার)

  • ইউরিয়া: ২০০–২৫০ গ্রাম
  • এমওপি: ১০০–১৫০ গ্রাম

👉 কন্দ বড় করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়


🗓️ দিন ১১০–১২০

  • গাছ পূর্ণ বৃদ্ধি পায়
  • পানি জমতে দেবেন না
  • রোগ-পোকা নজর দিন

🗓️ দিন ১৮০–২১০ (ফসল তোলার সময়)

  • পাতা হলুদ হয়ে শুকাতে শুরু করবে
  • কন্দ তুলে ফেলুন

💧 অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা

  • ১৫–২০ দিন পর পর হালকা সেচ (প্রয়োজন অনুযায়ী)

  • অতিরিক্ত বৃষ্টিতে পানি দ্রুত বের করুন

  • মাসে ১ বার:

    • জৈব তরল সার দিলে ভালো ফল

⚡ এক নজরে সারাংশ

সময় কাজ
০ দিন রোপণ
৩০ দিন ১ম সার
৬০ দিন ২য় সার
৯০ দিন ৩য় সার
১৮০–২১০ দিন ফসল সংগ্রহ

🌿 গুরুত্বপূর্ণ টিপস

  • উঁচু বেড না করলে ফলন কমে যাবে ❌
  • পানি জমলে কন্দ পচে যাবে ❌
  • পটাশ বেশি দিলে কন্দ বড় ও ভালো হবে ✔️
  • জৈব সার বেশি = মাটির গুণ ভালো ✔️

মরিচ (লঙ্কা) ও বেগুন গাছ এর সার ব্যবস্থাপনা

মরিচ (লঙ্কা) ও বেগুন গাছ লাগানোর পর সঠিক সময়ে সঠিক সার দিলে ফলন অনেক বাড়ে। নিচে সহজভাবে সময় ও পরিমাণসহ সার ব্যবস্থাপনা দিলাম—


🌶️ মরিচ গাছের সার ব্যবস্থাপনা

✅ রোপণের পর (১৫–২০ দিন পরে)

  • ইউরিয়া: প্রতি শতকে ২০০–২৫০ গ্রাম
  • এমওপি (পটাশ): ১৫০–২০০ গ্রাম

👉 গাছের গোড়া থেকে একটু দূরে দিয়ে মাটি চাপা দিন


✅ ৩০–৩৫ দিন পরে

  • ইউরিয়া: ২০০–২৫০ গ্রাম
  • এমওপি: ১৫০ গ্রাম

✅ ফুল আসার সময় (৪৫–৫০ দিন)

  • ইউরিয়া: ২০০ গ্রাম
  • এমওপি: ১৫০–২০০ গ্রাম
  • চাইলে বোরন (Borax): ১০–১৫ গ্রাম/১০ লিটার পানিতে স্প্রে

✅ ফল ধরার সময় (৬০–৭০ দিন)

  • ইউরিয়া: ২০০ গ্রাম
  • এমওপি: ২০০ গ্রাম

👉 এরপর প্রতি ১৫–২০ দিন পর হালকা ইউরিয়া + পটাশ দিলে ফলন বাড়ে


🍆 বেগুন গাছের সার ব্যবস্থাপনা

✅ রোপণের ১৫–২০ দিন পরে

  • ইউরিয়া: ২৫০–৩০০ গ্রাম/শতক
  • এমওপি: ২০০ গ্রাম

✅ ৩০–৩৫ দিন পরে

  • ইউরিয়া: ২৫০ গ্রাম
  • এমওপি: ১৫০–২০০ গ্রাম

✅ ফুল আসার সময় (৪৫–৫০ দিন)

  • ইউরিয়া: ২৫০ গ্রাম
  • এমওপি: ২০০ গ্রাম
  • জিপসাম: ১০০ গ্রাম

✅ ফল ধরার সময় (৬০ দিন থেকে শুরু)

  • প্রতি ১৫–২০ দিন পর:

    • ইউরিয়া: ২০০–২৫০ গ্রাম
    • এমওপি: ২০০ গ্রাম

👉 এভাবে নিয়মিত দিলে দীর্ঘদিন ফল পাওয়া যায়


💧 প্রয়োগের নিয়ম (দুটোর জন্যই)

  • সার সরাসরি গাছের গোড়ায় দেবেন না (২–৩ ইঞ্চি দূরে দিন)
  • সার দেওয়ার পর হালকা পানি দিন
  • শুকনা মাটিতে সার দেবেন না
  • বিকালে বা সকালে সার দেওয়া ভালো

🌿 বাড়তি টিপস

  • মাসে ১–২ বার জৈব তরল সার (গোবর পানি/ভার্মি লিকুইড) দিলে ভালো ফল পাবেন
  • পাতায় স্প্রে: মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট (জিংক, বোরন) দিলে ফুল ঝরা কমে
  • অতিরিক্ত ইউরিয়া দিলে গাছ বড় হবে, কিন্তু ফল কম হবে

👍 নিচে মরিচ 🌶️ ও বেগুন 🍆 চাষের সম্পূর্ণ দিনভিত্তিক ক্যালেন্ডার


🌱 মরিচ ও বেগুন চাষ ক্যালেন্ডার (দিনভিত্তিক)

🗓️ দিন ০ (রোপণের দিন)

  • চারা রোপণ
  • হালকা পানি দিন
  • সরাসরি সার দেবেন না

🗓️ দিন ৭–১০

  • গাছ পর্যবেক্ষণ
  • শুকিয়ে গেলে হালকা সেচ
  • কোন সার নয়

🗓️ দিন ১৫–২০ (প্রথম সার)

🌶️ মরিচ

  • ইউরিয়া: ২০০–২৫০ গ্রাম/শতক
  • এমওপি: ১৫০–২০০ গ্রাম

🍆 বেগুন

  • ইউরিয়া: ২৫০–৩০০ গ্রাম
  • এমওপি: ২০০ গ্রাম

👉 আগাছা পরিষ্কার করে সার দিন


🗓️ দিন ৩০–৩৫ (দ্বিতীয় সার)

🌶️ মরিচ

  • ইউরিয়া: ২০০–২৫০ গ্রাম
  • এমওপি: ১৫০ গ্রাম

🍆 বেগুন

  • ইউরিয়া: ২৫০ গ্রাম
  • এমওপি: ১৫০–২০০ গ্রাম

👉 মাটি কুপিয়ে (নরম করে) সার দিন


🗓️ দিন ৪৫–৫০ (ফুল আসার সময়)

🌶️ মরিচ

  • ইউরিয়া: ২০০ গ্রাম
  • এমওপি: ১৫০–২০০ গ্রাম
  • বোরন স্প্রে (ঐচ্ছিক)

🍆 বেগুন

  • ইউরিয়া: ২৫০ গ্রাম
  • এমওপি: ২০০ গ্রাম
  • জিপসাম: ১০০ গ্রাম

👉 ফুল ঝরা কমাতে স্প্রে উপকারী


🗓️ দিন ৬০–৭০ (ফল ধরার শুরু)

🌶️ মরিচ

  • ইউরিয়া: ২০০ গ্রাম
  • এমওপি: ২০০ গ্রাম

🍆 বেগুন

  • ইউরিয়া: ২০০–২৫০ গ্রাম
  • এমওপি: ২০০ গ্রাম

🔁 এরপর (চলমান যতদিন ফলন থাকে)

👉 প্রতি ১৫–২০ দিন পর পর:

🌶️ মরিচ

  • ইউরিয়া: ১৫০–২০০ গ্রাম
  • এমওপি: ১৫০–২০০ গ্রাম

🍆 বেগুন

  • ইউরিয়া: ২০০ গ্রাম
  • এমওপি: ২০০ গ্রাম

💧 অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা (দুটোর জন্যই)

  • সার দেওয়ার পর হালকা সেচ দিন

  • শুকনো মাটিতে সার দেবেন না

  • মাসে ১–২ বার:

    • জৈব তরল সার (গোবর পানি / ভার্মি লিকুইড)
  • ১০–১৫ দিন পর পর:

    • মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট স্প্রে (জিংক + বোরন)

⚡ মাঠে কাজের শর্ট প্ল্যান (এক নজরে)

সময় কাজ
০ দিন রোপণ
১৫ দিন ১ম সার
৩০ দিন ২য় সার
৪৫ দিন ফুলের সার
৬০ দিন ফলের সার
এরপর প্রতি ১৫–২০ দিনে সার

🌿 গুরুত্বপূর্ণ টিপস

  • বেশি ইউরিয়া = বেশি পাতা, কম ফল ❌
  • পটাশ বেশি = ফল বড় ও ভালো ✔️
  • পানি জমে থাকলে ফলন কমে যাবে

Blunder vs Debunk: যোগাযোগ ও PR-এ শব্দ দুটির প্রকৃত অর্থ

যোগাযোগ (communication) এবং Public Relations বা PR-এর জগতে শব্দের ব্যবহার অত্যন্ত সংবেদনশীল।
একটি শব্দ যেমন বিশ্বাস তৈরি করতে পারে, তেমনই ভুল শব্দ একটি ব্র্যান্ডের ভাবমূর্তি ধ্বংস করতেও যথেষ্ট।
এই প্রেক্ষাপটে blunder এবং debunk—এই দুটি শব্দ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

Blunder মানে কী?

Blunder বলতে বোঝায় একটি বড় ধরনের ভুল, যা সাধারণত অসতর্কতা, ভুল বিচার,
বা পরিস্থিতি ঠিকভাবে না বোঝার কারণে ঘটে।

যোগাযোগ বা PR-এর ক্ষেত্রে blunder হয় যখন:

  • অসম্পূর্ণ বা যাচাই না করা তথ্য প্রকাশ করা হয়
  • সংবেদনশীল বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য করা হয়
  • audience-এর মানসিকতা ও সামাজিক প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করা হয়

Blunder সাধারণত ইচ্ছাকৃত নয়। এটি মিথ্যা ছড়ানোর চেষ্টা নয়,
বরং ভুল সিদ্ধান্ত বা অসচেতনতার ফল।

PR-এ Blunder কেন এত ক্ষতিকর

একটি blunder মুহূর্তের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে তৈরি করা বিশ্বাস নষ্ট করতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এই ধরনের ভুল খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

অনেক সময় একটি ছোট বাক্য, একটি ভুল শিরোনাম,
বা একটি ভুল সময়ে দেওয়া পোস্টই বড় PR সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

Debunk মানে কী?

Debunk মানে হলো কোনো ভুল তথ্য, গুজব,
বা ভ্রান্ত ধারণাকে যুক্তি, তথ্য ও প্রমাণের মাধ্যমে ভুল প্রমাণ করা।

যোগাযোগ ও PR-এর ক্ষেত্রে debunk করা হয় যখন:

  • ভুল সংবাদ বা গুজব ছড়িয়ে পড়ে
  • কোনো ব্র্যান্ড বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ওঠে
  • জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়

Debunk করার উদ্দেশ্য আক্রমণ করা নয়,
বরং শান্ত ও তথ্যভিত্তিকভাবে সত্য তুলে ধরা।

Blunder আর Debunk-এর মধ্যে মূল পার্থক্য

সহজভাবে বললে:

  • Blunder হলো নিজের করা ভুল
  • Debunk হলো অন্যের ছড়ানো ভুল তথ্য ভাঙা

একটি ভুল পরিস্থিতি তৈরি করে,
আর অন্যটি সেই পরিস্থিতি সামলানোর একটি কৌশল।

ভুল Debunk করাও কেন বিপজ্জনক হতে পারে

অনেক প্রতিষ্ঠান blunder করার পর সেটাকে ঢাকতে গিয়ে ভুলভাবে debunk করার চেষ্টা করে।
এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।

আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া, অসম্পূর্ণ তথ্য,
বা আক্রমণাত্মক ভাষায় debunk করলে
audience-এর আস্থা আরও কমে যায়।

কার্যকর যোগাযোগের শিক্ষা

ভালো যোগাযোগ মানে সবসময় নিখুঁত হওয়া নয়।
বরং:

  • Blunder হলে তা স্বীকার করা
  • ভুল তথ্য হলে তা যুক্তি দিয়ে debunk করা
  • এবং প্রতিটি বার্তায় মানবিক ও দায়িত্বশীল থাকা

উপসংহার

PR এবং যোগাযোগে শব্দ শুধু ভাষা নয়, এগুলো কৌশল।
Blunder আমাদের শেখায় কোথায় সাবধান হতে হবে,
আর debunk শেখায় কীভাবে সত্যকে শক্তভাবে দাঁড় করাতে হয়।

এই দুইটি ধারণা পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারলে
যোগাযোগ আরও বিশ্বাসযোগ্য, পরিণত এবং কার্যকর হয়ে ওঠে।

স্মৃতিচারণমূলক দুটো গল্প এবং একটি ফাউ

আমেরি*কা যেতে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার এর বন্ড জমা দিতে হবে এই রকম নিউজ দেখে আমার বন্ড বা সিকিউরিটি মানি এবং আমেরি*কা নিয়ে দুইটা আলাদা আলাদা গল্প মনে পরে গেল।

গল্প ১ – বন্ড বা সিকিউরিটি মানিঃ

বুয়েটে ভর্তি হওয়ার সময় একটা বন্ড বা সিকিউরিটি টাকা জমা দেওয়া লাগে। পাশ করার পর সব হল এবং সব ল্যাব থেকে ক্লিয়ারেন্স এনে কাগজ জমা দিলে তখন সেই সিকিউরিটি মানি ফেরত দেয়। আমি রেজাল্ট পাবলিশ(পাশ করার পর রেজাল্ট গেজেট আকারে পাবলিশ এবং সার্টিফিকেট তোলার জন্য অনেক গুলো স্টেপ ফলো করা লাগে ) করিয়েছিলাম পাশ করার ১০ বছর পর। তখন মনে হল আমার সিকিউরিটি মানি তোলা লাগবে। মনে পরে গেল হল ছেড়ে দেওয়ার সময় আমার সব কিছু ক্লিয়ারেন্স এনে দেওয়ার জন্য হলের কর্মচারী এক দাদাকে টাকা দিয়েছিলাম কিন্তু সেই মহামূল্যবান কাগজটা নেওয়া হয়নি। রেজাল্ট পাবলিশ এর সময় গেলাম হলে, উনাকে পেলাম। উনি অনেক খুঁজে বের করে দিলেন। কাগজটার অবস্থা বেশ খারাপ। ত্যানা ত্যানা হয়ে গেছে। যাই হোক রেজাল্ট পাবলিশ এবং সব ধরনের সার্টিফিকেট তুলে আনলাম বছর ১০ পর হলেও(যদিও এর জন্য আমার ওয়াইফ এর অনুপ্রেরনা এবং ক্রমাগত প্রেসার এর অবদান উল্লেখ না করলেই না)।

এবার বন্ড বা সিকিউরিটি মানির টাকা তোলার পালা। সেই ত্যানা হয়ে যাওয়া ক্লিয়ারেন্স এর কাগজ নিয়ে গেলাম রেজিস্টার বিল্ডিং এর কাংখিত রুমে। কাগজটা হাতে নিয়ে মহিলা অফিসার বল্লেন, আপনি এই কাগজ কোথায় পেলেন! এত বছর পর! আপনার টাকা তো মনে হয় আর নাই বা অন্য ফান্ডে চলে গেছে! যদি পাওয়া যায় আশা দিয়ে উনি কাগজটা রেখে দিলেন।

আমি আর সেই বন্ডের টাকা পাইনি! আর আর যাইনি। পাশ করার পর আমার বুয়েটে যেতে তেমন কোন ইচ্ছাই করত না।

গল্প ২ – আমেরি*কাঃ

বুয়েট থেকে পাশ করার আগেই আমি একটা চাকরি করতাম। চাকরিটা ছিল গ্রামীন এর আইটি ফার্ম গ্রামীন সলুশন লিমিটেডে। মূলত গ্রামীন সম্পর্কে ওই সময় আমার জানা, এর আগে গ্রামীন নামে কোন প্রতিষ্ঠান আমার জানা ছিল না। ইউনুস সাহেব তখন নোবেল পান, অফিস বিল্ডিং এর নিচে নোবেল দেখার জন্য লাইন লেগে থাকত। আমি আমার জীবনের প্রথম এবং শেষ চাকরি ঐ একটাই করেছি। এটা ছিল পুরা ৬ মাসে , ২০০৮ এর জানুয়ারি থেকে ৬ মাস পর আমি ছেড়ে দেই। যাই হোক, চাকরির কাজ এর জন্য ট্রেনিং এ আমেরি*কা পাঠানোর আলোচনা চলছিল। আমি ‘রুবি’ নামের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ বেশ পপুলার হয়েছে আর এটার ‘রেইলস’ ফ্রেমওয়ার্ক বেশ হাইফ তুলেছিল। অফিস থেকে ৬জনকে আমেরি*কা পাঠাবে এটা শেখার জন্য। আমি ঐ টিমে সুযোগ পেলাম। কিন্তু চাকরি করে আমার বুয়েট শেষ হচ্ছিল না। আমি চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলাম সিটিও মহাশয় এর সাথে কথা বলে। আমার রিপোর্টিং ম্যানেজার অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল, আপনি আমেরি*কা যাবেন না! আমি বলেছিলাম না। আমি আর কোথাও যাইনি। অবাক করা ব্যাপার হল সেই ৬ জনের টিম বা যে টিম এর আমেরি*কা যাবার কথা ছিল তারা আর পরে কেউ যায়নি বা পাঠানো হয়নি।

বোনাস গল্পঃ
বুয়েটের আহসানুল্লাহ হলে শুরুতে আমার রুমে দুইজন সিনিয়র ছিলেন, একজন আমেরি*কা যাবার জন্য পাগল ছিলেন, উনি ঠিক মত লেখাপড়া বা ক্লাস করতেন না বা উনার ভালো লাগত না। তার ধ্যান জ্ঞান ছিল আমেরি*কা যাবার। একদিন বলেছিলেন, আমেরি*কা একটা কুকুরও ভালো বা এই রকম কিছু। উনাকে আমার ভালোই লাগত। উনি একবার হঠাৎ করে বুয়েট ছেড়ে দিলেন দুই এক সেমিষ্টার পর, এরপর সম্ভবত প্রাইভেট কোন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছিলেন। দাদার ডাক নাম ছিল সঞ্জু দা। একদিন সঞ্জু দার সেই আমেরি*কার একটা কুকুরও ভালো ব্লা ব্লা … এই ডায়লগটা আমার এখনো কানে বাজে।

বন্ড বা সিকিউরিটি মানি এবং আমেরি*কা আপনার কোন গল্প থাকলে শেয়ার করেন।।