একটি হাস্যকর হাসি !

একজন প্রচন্ড হাসিখুসি মানুষ একদিন খেয়াল করলেন তিনি হাসতে পারছেন না।

তিনি আয়নার সামনে নিজেকে দেখলেন, হাসার চেস্টা করলেন কিন্তু কাজ হচ্ছে না।
তিনি হাসতে পারলেন না, হাসি কোথায় গেল ?

তিনি বাজার থেকে তুখোড় সব হাসির গল্পের বই কিনে আনলেন।
কিন্তু একি ! তিনি পড়ছেন আর আরো বেশি বেশি গম্ভীর হয়ে যাছেন, হাসিতো আসেনা,
ব্যাপারটা হাস্যকর পর্যায়ে যাবার পরও তিনি হাসতে পারছেন না।

…………………

হঠাৎ তার একটা পুরাতন কৌতুক মনে পড়ল, তিনি হো হো করে হেসে দিলেন।

…………… মানচুমাহারা, ১৯।০৪।২০১৩

বিঃ দ্রঃ কি কৌতুক মনে পড়ার পর তিনি হেসে দিলেন এটা আমিও জানি না।

চিৎকার

ঠিক যত জোড়ে চিৎকার করলে আমার গলার প্রকোষ্ঠ থেকে-
কন্ঠনালী ছিঁড়ে বেড়িয়ে আসবে তার থেকেও জোড়ে চিৎকার করতে ইচ্ছে করে মাঝে মাঝে।
আমার চিৎকারে আমার কানের তালা লেগে যাবে,
বাঘে মহিষে এক ঘাটে পানি খাওয়ার সময় ঝগড়া বিবাদ ভুলে থর থর করে কাঁপবে।

আমার চিৎকারে মৃত্যু পথযাত্রী মৃত্যু যন্ত্রনা ভুলে ভীমড়ি খেয়ে চেয়ে থাকবে,
আমাজন জঙ্গলের আধা সভ্য মানুষগুলো কিংকর্তব্যবিমূড় হয়ে সভ্যতা থেকে পশ্চাৎপদ হবে।

আমি ঠিক তত জোড়ে চিৎকার করতে চাই যাতে আমি চিরদিনের জন্য আর চিৎকার করতে না পারি,
এই হবে আমার শেষ চিৎকার, আমি এরপর আর কোন শব্দ উচ্চারণ করতে পারবো না।

আমার প্রচন্ড চিৎকারে একজন বোমাবাজ বোমা ছুড়তে ভুলে যাবে, নিজের হাতেই বোমা ফুটিয়ে নিজেই ফুটে যাবে।
আমার প্রচন্ড চিৎকারে নতুন বিবাহিত দম্পতি সারা রাত কানে আঙুল দিয়ে কাটিয়ে দেবে।

আমি এতজোড়ে চিৎকার করব যে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশের রাষ্ট্রপতি বিরক্ত হয়ে, ক্ষুব্ধ হয়ে বলবে, আহ ওকে থামা, ওর গলা চেপে ধর সাড়াশি দিয়ে।

আমার প্রচন্ড চিৎকারে মঙ্গল গ্রহের নতুন নাম হবে অমঙ্গল, পৃথিবীর সব জাত পাগল পাগলামী ভুলে করুনার দৃষ্টিতে আমার দিকে চেয়ে থাকবে নিষ্পলক। আমি হা হা হু হু শব্দে ভয়ংকর অসুরের মত দিক বিদিক প্রকম্পিত করে চিৎকার করে ডেকে আনবা মহাপ্রলয়।

আমি প্রচন্ড চিৎকারে এই মহাবিশ্বের ইকোসিস্টেমকে ধংস করে দিয়ে শান্তির ঘুম ঘুমাবো। আহ।

……………………………
মানচুমাহারা, ১৭.০৪.২০১৩ ১:১০ AM

রিট

কি হবে ছুটে মিছে অন্ধের পিছে,
কালের স্রোত বইছে পিঠে,
ভালোবাসা হয়না রে পাগল আদালতের রিটে !!

ref: My facebook status

বোশেখ

ইচ্ছে করে প্রচন্ড বড় দুইটা শিং নিয়ে ক্ষেপা সাঁড়ের মত ছুটে যায় মানুষের জঙ্গলে,
কিংবা কাল বোশেখীর প্রচন্দ ছোবলে শহর গ্রামের সব ময়লা উড়িয়ে নিয়ে ফেলি মঙ্গলে।
অথবা পাগলা চৈতে রোদে পোড়াব অলস দেহের অবশ চিন্তা প্রকৌষ্ঠ ||

বিঃ দ্রঃ আগামী বোশেখে না হয় আরো কিছু লাইন যুক্ত করব।
১৪।০৪।২০১৩

অশ্রুফোটা এবং মাটির কথোপকথন

এক অচেনা অজানা মানুষের চোখ থেকে এক ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল মাটিতে।
মাটি তাকে জিজ্ঞাসা করল, কি হয়েছে তোমার?
অশ্রুফোটাঃ আহা মানুষটার মনে কি কষ্ট , তাই আমি গড়িয়ে পড়লাম !
মাটিঃ তোমার কষ্ট হলে তুমি কি কর ?
অশ্রুফোটাঃ …।

সব কিছু গুনি না, গুনতে নাই

সব কিছু গুনতে নাই, সব কিছু গুনি না।

কতবার হেসেছি, কতবার কেশেছি মনে নাই।
কতবার লাফিয়েছি, কতবার বসে থেকেছি ভ্যাবলার মত মনে নাই।
কতবার দুঃখ দিয়েছি অন্যকে, কতবার নিজে দুঃখ পেয়েছি,
কতবার ভালোবাসা পেয়েছি কিংবা বেসেছি কিংবা প্রত্যাখাত হয়েছি গুনে রাখিনি, আমি গুনে রাখি না।

সব কিছু হিসাব করি কি ? সব হিসেবে থাকে না।
কতবার কীবোর্ডের এন্টার বাটন চেপেছি, কতবার কপি পেস্ট করেছি জানি না।
গোনার চেস্টা করিনি কতবার মাউস দিয়ে ক্লিক করেছি।

আমি কিছুই লিখে রাখিনি কত বার চিন্তা না করেই বলেছি ভালো আছি। কতবার আনমনে বলেছি ধুর !
কত দিন তোমাকে দেখিনি, কতদিন দেখেছি, কতবার দেখবো হিসাবের খাতায় জমা করি না।
আমি হিসাব করতে জানি না, জানি কি, জেনেছি কি ?

কতবার মালায়ন সম্বোধন শুনেছি, কত বার পত্রিকা উল্টাতে পড়েছি মন্দির ভাংচুর লিখে রাখিনি।
কতবার হতাশ হয়েছি, কতবার আশা নিয়ে আবার বেঁচে উঠেছি জানি না। কতবার গালি খেয়েছি, কতবার গালি দিয়েছি জানি না।

হিসাব করিনি অনেক কিছুই, কত কিছু লিখেছি, কি কি লিখি নাই। কি কি বলার কথা ছিল। কি কি বলিনাই আর কত কিছু এখনো বলব।
কত কিছু গুনতে পারিনি তাও গুনে দেখিনি, দেখতে চাই না।

————————–
মানচুমাহারা, ০৯।০৪।২০১৩

দই

দই জমাট বাধার জন্য যথেষ্ট পরিমান ব্যাকটেরিয়ার দরকার হয়।

দই আর ব্যাকটেরিয়ার এই পারস্পারিক সহবাস (সহবস্থান)  একটা সমাধান, এটা কোন সমস্যা না।

 

……………………………………………………………

মানচুমাহারা, ০২।০৪।২০১৩

গন্ধ পাই

একবার হায় ভোল্টেজে আমার বাসার সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রের সুইচ পুড়ে গেল,
আমি ঘুমিয়ে ছিলাম, প্রচন্ড পোড়া গন্ধে আমার ঘুম ভেঙে গেল। আমি আজও হঠাৎ হঠাৎ সেই পোড়া গন্ধ পাই।
এরপর আর কখনো আর এমনটি হয়নি কিন্তু মাঝে মাঝেই আমি কল্পনা করি,
আমার ল্যাপ্টপ এর চার্জার গলে যাচ্ছে, ছাদ থেকে বৈদ্যুতিক পাখাটি গলে ছিড়ে পড়ছে ফ্লোরে !

আমি আমার ভেতরের পোড়াকে কখনো পাত্তা দেই না, কারণ ওটা বাইরে থেকে দেখা যায় না,
তাই অত বড় পৃথিবীটা পুড়ে ছাই হলে আমি কোন কবিতা লিখব না, কথা দিচ্ছি।

আমি না চাইনা তবুও উপসনালয় পুড়ে দূরে কোথাও,
মানুষের হাতের কব্জি পুড়ে, বাস পুড়ে, বাড়ি পুড়ে, স্বপ্ন আর ভালোবাসা পুড়ে, বিশ্বাস পুড়ে।
আমি চাই না তবু জানি তোমার এখনো বেঁচে থাকা চোখ একদিন আমাকে দগ্ধ করবে ঠিকই।

তোমাকে পুড়িয়ে আদিম মানুষের মত তোমার চারপাশে আমি হাউলা হাউলা করব না কথা দিচ্ছি,
তবু তুমি পুড়বে কিনা আমি জানি না, আমি তোমাকে বাঁচাতে পারব না যদি তুমি আপনি তাপে পুড়ে যাও।

আমি আগুন আর জলের ব্যবহার জানি না, জ্বালাতে জানি না, জ্বলেছি ঢের বার।
আমি নিরপেক্ষ নই, আমি জলা কিংবা জ্বলার দলের নই, আমি জলিত এবং আমি জ্বালিত।

হয়তো আমি একদিন তোমার পোড়ার জন্য গন্ধ পাব।
………………………………………
মানচুমাহারা, ০২।০৪।২০১৩

বনসাই

প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মকে কাঁচকলা দেখিয়ে কিছু মানুষ গাছের বৃদ্ধি হ্রাসকরণ হরমোন প্রয়োগ করে বনসাই বানিয়ে সৌদর্য খুঁজে।
কেউ কেউ মনের সহজাত অনুভূতি/আবেগকে বনসাই বানিয়েও যুক্তি খুঁজে।

বিঃ দ্রঃ কবিতাটির অপঘাতে মৃত্যু হয়েছে, মৃত্যুকালে তার উচ্চতা হয়েছিল দুই লাইন। কবিতাটির কাছে কারো কোন দেনা পাওনা থাকলে নিজ গুনে ক্ষমা করে দিবেন।

———————
৩০।০৩।২০১৩
মানচুমাহারা

কাতুকুতু

নিশ্বব্দে বোনা জালে ধরা পড়ে মনপাখি
অছ্যুৎ ঘুমে ডুবে আসে নির্লজ্জ দুআখি …

কথা ছিল এদুচোখ আটকাবে ঘোর লাগা চাঁদে,
দিক ভুলে আসা মশা মরবে দুহাতের পাতা ফাঁদে।

কথা ছিল জোনাকীর আলোতে ভুল মনে হবে দুষ্টুমী
কথা ছিল তুমি ঘুমিয়ে পড়লে কাতু কুতু দেব আমি !

কাতু কাতু কাতু কাতু কাতু
ঘুমে ঢুলু ঢুলু চোখ পুতু পুতু ।

——————-
29.03.2013
মানচুমাহারা

বিঃ দ্রঃ লাইনগুলো আমার নিজের ফেসবুকের স্ট্যাটাস থেকে