লাগাম

গ্রীক দেবী এথিনা ঘোড়াকে পোষ মানিয়েছিলেন।
আমি মানুষ, দেব বা দেবী নই।
মনের ঘোড়ালে লাগাম পড়ানো আমার কম্ম নয় !

আমি ঘোড়ার পিঠে চড়ব কিন্তু ঘোড়ার নিয়ন্ত্রক আমি হব না।
ঘোড়া তাঁর যেখানে ইচ্ছা আমাকে নিয়ে যাবে।

আমি লাগামহীন ঘোড়া চড়ব কিংবা ঘোড়া চড়বে আমাকে।।

……………………………
মানচুমাহারা, ২২/০৪/২০১৩

আত্মপোলব্ধি

বিশুদ্ধ হতে চেয়ে পারিনি, মানুষকি বিশুদ্ধ হতে পারে ?
শুষ্ক হতে চেয়ে হেরে গেছি বার বার, ভিজে গেছি অনাহূত বর্ষায় !
ভিজতে চেয়ে পারিনি, একটা প্রচন্ড শান্ত মরুভূমি গ্রাস করেছে বার বার।

অশুদ্ধতার জন্য কত চেস্টা করলাম !
বিন্দু আর বৃত্তের মাঝে আমার যেন হাজার বছরের আটকে থাকা।

আমি শুদ্ধ হতে চাই,
আমি অশুদ্ধ হতে চাই,
আমি শুষ্ক হতে চাই
আমি চাই আর্দ্রতা।

আমি চিরকাল আমার নিজের কাছে পরাজিত।
আমি পরাজিত হতে চাই,
আমি জিততে চাই,
আমি হারাতে এবং হারতে চাই।

বিরামহীন ভাবে নিজেকে জানার চেস্টা।।

………………………………
মানচুমাহারা, ০৭।০৫।২০১৩

সহজ

সহজেরে খুঁজি,
সহজকে পূঁজি।
নয়তো সহজ নয়তো সোজা,
সহজ মানুষ সহজে বুঝা ।।

একটি সহজ কেন্দ্র চাই, একটি সহজ বৃত্ত
একটি সহজ মন্ত্র চাই, একটি সহজ চিত্ত।

সহজ বলেই সহজ খুঁজি, মেলেনাতো সহজে
সহজ পদ্য, সহজ গদ্য, সহজ ভাবে লহ যে !
…………………………
মানচুমাহারা, ০৯।০৫।২০১৩

প্রতীক্ষা কিংবা চাঁদের জন্য অপেক্ষা

ঘোর অমাবস্যার কাল পেরিয়ে পূর্ণিমার জন্য মানুষের অনন্ত প্রতীক্ষা,
মানুষ অপেক্ষা করতে ভালোবাসে।(?)
ছোটবেলায় স্থির আমি প্রচন্ড আগ্রহ নিয়ে চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকতাম।
অনেকবার মাকে জিজ্ঞাসা করেছি, আচ্ছা মা চাঁদ মামা কেন আমার পিছে পিছে ঘুরে ?

আমার পিছে পিছে ঘুরা চাঁদ মামা আজ স্থির, আমিই অস্থির ভাবে চাঁদের জন্য অপেক্ষা করি সারাটা অমাবস্যা।
অপেক্ষা করতে আমার বিরক্তি লাগে না, নিয়মটাই যেন এমন যে শুধু আমিই অপেক্ষা করব, আর কেউ নয় !

এই এত্তবড় চাঁদের জন্য অপেক্ষা না করে পারা যায়।

পৃথিবীতে যুগে যুগে অনেক চন্দ্রগ্রস্থ মানুষের হাহাকার করেছে…
আমি চন্দ্রগ্রস্থ নই, চাঁদের প্রতি আমার কোন আসক্তি নেই।
আমি সম্ভবত চাঁদের থেকে চাঁদের আলো ভালোবাসি।

আচ্ছা পৃথিবীর কি দুইটা চাঁদ হলে খুব ক্ষতি হত ?
যদি আমার উপর দুই চাঁদের নামকরণের দায়িত্ব দেওয়া হত আমি কি নাম দিতাম ?
কি নাম দিতাম জানি না, তবে আমি ঘোষনা দিয়ে দিতাম আজকে থেকে অমাবস্যা বন্ধ !

…………………………………………………………।।
মানচুমাহারা, ২৮।০৪।২০১৩

মেঘানুভূতি

ঘনকালো মেঘের ছড়াছড়ি আকাশ জুড়ে,
অতল-গভীর-জমাট-উত্কন্ঠা নিয়ে-
প্রচন্ড বেগে ছুটে আসতে চায় মাটিতে।।
ভিজিয়ে দিতে পথ-ঘাট, কষ্টের ঝর্ণা ধারায়……

বোকা আকাশের মন খারাপে মেঘের মাতামাতি
ভারী কষ্টগুলো ঝরে পরে বর্ষা হয়ে,
ভিজে যাই আমি-তুই-আমরা।।

আমার মনেও মেঘ জমে, জমে জমে মেঘগুলো ভারী হয়।।
আমি তো বর্ষা আনি না,
আমি তো তোকে ভেজাতে পারি না।।

আমি নিঃশ্বাস বন্ধ করে মেঘগুলো খেয়ে ফেলি।।
দুঃখগুলো প্রচন্ড উষ্ণতায় উদ্বায়ী হয়ে উড়ে যায়।।

বন্ধু তোর মেঘগুলো জমে ভারী হলে আমাকে দিস।।

হয়তো একদিন নিজেই মেঘ হয়ে যাব,
তোমাদের সব মেঘ চুরি করে আমি হব মেঘরাজ।।

হয়তো প্রচন্ড মেঘলা এক দিনে হয়ে যাব মেঘানুভূতি শূণ্য,
মেঘ প্রতিবন্ধী।।
………………………………………………
মানচুমাহারা

//২০১০ এর দিকে লেখা মনে হয়

অংক

একদিন চুপচাপ বসেছিলাম,
একটা অংক কষেছিলাম,
যোগ ভাগ বিয়োগ …
ভগ্নাংশ, অনুপাত-সমানুপাত
তারপর আমি কাত !

মায়া

কথা নয় মিছে ভালোবেসে পিছে খুন হয়ে যাবে লাশ
হিরকের ধারে খাঁজ কাটা হবে বলে কাঁচের উল্লাস।
বাতাসে গায়ে কথা ভেসে ভেসে উড়ে যাবে পাহাডের গায়
পাহাড় তুমি কি জানো ? মানো বা না মানো, ভুল তুমি দাঁড়িয়ে ঠায়।

রোদের আঁচে পুড়ে পুড়ে বাঁচে, পথিকের পথ কি ফুরায় ?
পথ তুমি কিযে ! আঁকো বাঁকো মিছে, অচেনা ইচ্ছে ভেলায়।
ছায়ার কি দোষ, মায়া পড়ে যায়, যদি দেখা হয়ে যায় পথে।
ইচ্ছেটা যদি পেরিয়ে যায় বাঁধা, খাঁচার সে পাখির হাসফাঁস কিযে !

(চলবে)

নোটঃ এই লেখাটার শুরু থেকে এখনো পর্যন্ত উদ্দেশ্য এটাকে একটা গান হিসাবে রূপ দেওয়া। আমি ঠিক করেছি গান শিখব, তারপর নিজের লেখায় নিজে সুর করব। গান শেখা তবলা বাজানোর থেকে সহজ 😛

নিরাবতা

একদিন নিরবতা ভেঙে যে বীজের অংকুরোদগম হয়েছিল তার নিঃশব্দ চিৎকারে কি পৃথিবী প্রকম্পিত হয়নি ? হয়েছে, কেউ জেনেছে আর কেউ জানেনি। সবাই জানে না, সবাইকে জানার দরকার নাই।

তারপর সময়ের সাথে বীজ থেকে চারা, চারা থেকে গাছ … সে ইতিহাস হয়তো কেউ লিখে রাখিনি।
মাটি ফুঁড়ে গাছের শিকড় বয়ে গেছে আরো গভীরে পানি আর জীবনের সন্ধানে।
কিংবা ডালপালা গজিয়ে যে বটবৃক্ষের পাতা কি বাতাসে দোলা দেয় না, শনশন শব্দ কেউ শুনি কেউ শুনি না।

বিঃ দ্রঃ
আমরা যে নিরবতার পেছনে ছুটি তা কি আদৌ সম্ভব ? আমার মনে করি সম্ভব না। ব্যাপারটা বিন্দু আর বৃত্তের মত। নিরাবতা কিংবা চিন্তা বৃত্তের ঠিক শেষ যেখানে তারপরেই আবার কোলাহল শুরু হয়।

আপনি কোন থাকার কথা বলছেন ?

কেমন আছেন এই প্রশ্ন কাউকে করা কি উচিৎ ?
কেউ কেমন আছে তা জেনে আমার কি লাভ কিংবা সে কেন আমাকে জানাবে।
কেন সে মিথ্যা উত্তর দিবে, ভালো আছি।
আচ্ছা মানুষটা যদি উলটো জিজ্ঞাসা করে,
আপনি কোন ‘থাকার’ কথা বলছেন ? তাকে কি উত্তর দেব !

………………………
২৭।০৪।২০১৩, মানচুমাহারা

বিঃ দ্রঃ বন্ধু সুজিত এর সাথে একদিন কথা বলতে বলতে ফন্দি করে ফেললাম কেউ যখন জিজ্ঞাসা করবে কেমন আছি তখন তাকে এই প্রশ্নটা উলটা জিজ্ঞাসা করব, আপনি কোন ‘থাকার’ কথা কইছেন ? অবশ্য আপনজন ছাড়া উলটা প্রশ্ন করলে তাতে লোকসান বই লাভ কিছু হবে না।

মনের শরীর

আমি সব সময় ভেবেছি যদি শরীর থেকে মনটা আলাদা করে শিঁকোয় তুলে রাখা যেত।
কিংবা জামা কাপড়ের মত আড়ে ঝুলিয়ে রাখি, রোদে শুকোতে দেই,
ভিজিয়ে রাখি পানিতে কিংবা বাতাসে ছেড়ে দেই উঠে বেড়াক যেখানে খুশি।

বাতাসে ছেড়ে দিলে একটা সমস্যা আছে, ভুল ঠিকানায় উড়ে গিয়ে বাধাবে বিপদ !
পানিতে ভিজিয়ে রাখলে যদি নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়, যদি মাছেরা খেয়ে ফেলে, মাছের মনতো !

আমি মনকে যদি একটা গুঁয়ে মাছির সাথে বেঁধে দেই ? উঠে বেড়াবে বাঁশি পচা নর্দমায় , মজা হত, ঘেন্না হত।

আচ্ছা মন শরীরকে নিয়ন্ত্রন করে নাকি শরীর মনকে, মন খারাপ হলে কি শরীর খারাপ হয়, শরীর খারাপ হলে কি মন খারাপ হয়,
মন কেন খারাপ হয় ? মন কেন ভালো হয় ? শরীর থেকে কি মন আলাদা করে ব্যাংকে জমা রাখা যায় না ?

আচ্ছা শরীরের যেমন মন থাকে, মনের শরীর থাকে না ? থাকা উচিৎ।

আমি অনেক বার ভেবেছি শরীর থেকে কিভাবে মনকে আলাদা করা যায়।
মনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে ঘুরে বেড়াবো। বকা দেব, ভালোবাসব।

………………………… মানচুমাহারা, ২৩।০৪।২০১৩