বাংলা ও সংস্কৃত ভাষার উৎপত্তি ও বিবর্তন গ্রাফিক্যালি দেখানোর জন্য আমি একটি টেক্সট-ভিত্তিক ডায়াগ্রাম দিচ্ছি:
ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবার (প্রায় ৪৫০০-২৫০০ খ্রিস্টপূর্ব)
|
ইন্দো-ইরানীয় শাখা
|
ইন্দো-আর্য শাখা (প্রায় ২০০০-১৫০০ খ্রিস্টপূর্ব)
|
বৈদিক সংস্কৃত (১৫০০-৫০০ খ্রিস্টপূর্ব)
|
শাস্ত্রীয় সংস্কৃত (৫০০ খ্রিস্টপূর্ব-৫০০ খ্রিস্টাব্দ)
|
-------------------------------------------------
| | |
প্রাকৃত ভাষাসমূহ পালি ভাষা অপভ্রংশ ভাষাসমূহ
(৬০০-২০০ খ্রিস্টপূর্ব) (বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ) (৬০০-১০০০ খ্রিস্টাব্দ)
| | |
-------------------------------------------------
|
আবহাত্ত/অবহট্ট (১০০০-১৩০০ খ্রিস্টাব্দ)
|
-----------------------------------------------
| | |
বাংলা ভাষা (১৩০০-বর্তমান) অসমীয়া অন্যান্য পূর্বী ভাষা
|
-----------------------------------------------
| | |
প্রাচীন বাংলা মধ্যযুগীয় বাংলা আধুনিক বাংলা
(১০০০-১৩৫০) (১৩৫০-১৮০০) (১৮০০-বর্তমান)
|
-----------------------------------------------
| | |
রামচরিতমণি শ্রীকৃষ্ণকীর্তন চলিত ও সাধু ভাষা
(১ম বাংলা গ্রন্থ) (১৪শ শতক)
সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
সংস্কৃত ভাষার উৎপত্তি ও বিবর্তনক্রম:
ইন্দো-ইউরোপীয় (মাতৃভাষা)
↓
ইন্দো-ইরানীয় (পূর্ব শাখা)
↓
ইন্দো-আর্য (ভারতীয় শাখা)
↓
বৈদিক সংস্কৃত (ঋকবেদের ভাষা)
↓
শাস্ত্রীয় সংস্কৃত (পাণিনির ব্যাকরণ)
↓
লৌকিক সংস্কৃত (সাধারণ জনগণের ভাষা)
বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিবর্তনক্রম:
প্রাকৃত ভাষা (মাগধী প্রাকৃত)
↓
অপভ্রংশ (মাগধী অপভ্রংশ)
↓
আবহাত্ত/অবহট্ট (গৌড়ীয় আবহাত্ত)
↓
প্রাচীন বাংলা (চর্যাপদ, ১০ম-১২শ শতক)
↓
মধ্যযুগীয় বাংলা (শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, ১৪শ-১৮শ শতক)
↓
আধুনিক বাংলা (১৯শ শতক-বর্তমান)
সময়রেখা:
| সময়কাল | সংস্কৃত | বাংলা |
|---|---|---|
| ৪৫০০-২৫০০ খ্রিস্টপূর্ব | ইন্দো-ইউরোপীয় | – |
| ২০০০-১৫০০ খ্রিস্টপূর্ব | ইন্দো-আর্য | – |
| ১৫০০-৫০০ খ্রিস্টপূর্ব | বৈদিক সংস্কৃত | – |
| ৫০০ খ্রিস্টপূর্ব-৫০০ খ্রিস্টাব্দ | শাস্ত্রীয় সংস্কৃত | – |
| ৬০০-২০০ খ্রিস্টপূর্ব | প্রাকৃত ভাষা | – |
| ৬০০-১০০০ খ্রিস্টাব্দ | লৌকিক সংস্কৃত | প্রাকৃত-অপভ্রংশ |
| ১০০০-১৩০০ খ্রিস্টাব্দ | – | আবহাত্ত/প্রাচীন বাংলা |
| ১৩০০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ | – | মধ্যযুগীয় বাংলা |
| ১৮০০-বর্তমান | – | আধুনিক বাংলা |
মূল পার্থক্য:
- সংস্কৃত → ইন্দো-ইউরোপীয় পরিবারের দক্ষিণ শাখা
- বাংলা → ইন্দো-ইউরোপীয় পরিবারের পূর্ব শাখা (সংস্কৃতের উত্তরসূরি নয়, সমান্তরাল)
বাংলা সংস্কৃত থেকে সরাসরি উৎপন্ন হয়নি, বরং এরা উভয়েই ইন্দো-আর্য ভাষার বিভিন্ন শাখা থেকে বিবর্তিত হয়েছে। বাংলার সরাসরি পূর্বসূরি হল মাগধী প্রাকৃত ও গৌড়ীয় অপভ্রংশ।