in 2026, Bangla Blogs

দেবী মনসা কে? কিভাবে মনসা পূজার শুরু হল

দেবী মনসা হিন্দু ধর্মের লোকবিশ্বাস ও পুরাণে মূলত সাপের দেবী এবং সর্পদংশন থেকে রক্ষাকারী দেবী হিসেবে পরিচিত। বাংলার গ্রামীণ সমাজ, বিশেষ করে নদী-বিল-জলাভূমি ও কৃষিনির্ভর অঞ্চলে তাঁর উপাসনার ঐতিহ্য খুবই গভীর। তবে মনসার পরিচয় শুধু “সাপের দেবী”তে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি উর্বরতা, সন্তান, সমৃদ্ধি এবং বিপদ থেকে রক্ষার সঙ্গেও লোকধর্মে যুক্ত।

মনসা কে?

মনসার উৎপত্তি সম্পর্কে একাধিক ধারার কাহিনি আছে। পুরাণীয় ধারায় তাঁকে ঋষি কশ্যপের কন্যা এবং নাগরাজদের সঙ্গে সম্পর্কিত দেবী হিসেবে বর্ণনা করা হয়। আবার বাংলার মঙ্গলকাব্য ও লোককাহিনিতে মনসার নিজস্ব একটি শক্তিশালী চরিত্র গড়ে উঠেছে।

বাংলায় তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক পরিচয় এসেছে মনসামঙ্গল কাব্য থেকে। সেখানে মনসা এমন একজন দেবী, যিনি চান মানুষ তাঁকে দেবী হিসেবে স্বীকার করে পূজা করুক। কিন্তু সমাজের প্রভাবশালী বণিক চাঁদ সদাগর তাঁকে পূজা করতে অস্বীকার করেন।

এই দ্বন্দ্ব থেকেই বাংলার সবচেয়ে বিখ্যাত লোককাহিনিগুলোর একটি তৈরি হয়েছে।

চাঁদ সদাগর ও মনসার কাহিনি

চাঁদ সদাগর ছিলেন শিবভক্ত। মনসা চেয়েছিলেন চাঁদ সদাগরও তাঁর পূজা করুন। কিন্তু চাঁদ তাঁকে দেবী হিসেবে স্বীকার করতে রাজি হননি।

এরপর মনসা ও চাঁদ সদাগরের মধ্যে এক ধরনের দেবতা বনাম মানুষের সংঘাত শুরু হয়। মনসার ক্রোধে চাঁদের একের পর এক পুত্র সাপের কামড়ে মারা যায়। শেষ পর্যন্ত তাঁর পুত্র লখিন্দর ও পুত্রবধূ বেহুলার কাহিনি এই উপাখ্যানের কেন্দ্রে চলে আসে।

বিয়ের রাতে লখিন্দরকে সাপ কামড়ায় এবং সে মারা যায়। কিন্তু বেহুলা স্বামীর মৃতদেহ নিয়ে নৌকায় করে দেবলোকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তাঁর ভালোবাসা, দৃঢ়তা ও সাধনায় শেষ পর্যন্ত দেবতারা সন্তুষ্ট হন এবং লখিন্দরের জীবন ফিরে আসে।

এই কাহিনির মাধ্যমে মনসা একদিকে ভয়ংকর শক্তির প্রতীক, অন্যদিকে মানুষের প্রার্থনা ও ভক্তির কাছে সাড়া দেওয়া দেবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।


তাহলে মনসা পূজার শুরু কীভাবে?

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে।

মনসা পূজা কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ে একজন ব্যক্তি এসে শুরু করেছিলেন, এমন ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। বরং এটি দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা একটি লোকধর্মীয় উপাসনা-প্রথা

এর পেছনে বাংলার প্রাকৃতিক পরিবেশের বড় ভূমিকা ছিল।

প্রাচীন বাংলার মানুষের জীবন ছিল নদী, খাল, বিল, পুকুর, ধানক্ষেত ও জঙ্গলকে কেন্দ্র করে। বর্ষাকালে সাপের উপদ্রবও বেড়ে যেত। কৃষক, জেলে, মাঝি এবং গ্রামীণ মানুষের কাছে সাপ ছিল বাস্তব বিপদ।

চিকিৎসাব্যবস্থা ও সাপের বিষ সম্পর্কে আধুনিক বৈজ্ঞানিক জ্ঞান তখন ছিল না। ফলে মানুষ এমন এক দেবী-শক্তির কল্পনা ও বিশ্বাস তৈরি করেছিল, যিনি সাপকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং সাপের বিষ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পারেন।

এই সামাজিক ও পরিবেশগত বাস্তবতার সঙ্গে ধীরে ধীরে সর্পদেবীর উপাসনা যুক্ত হয়।


মনসা পূজার মধ্যে লোকধর্মের একটা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আছে

মনসাকে বোঝার জন্য শুধু সংস্কৃত পুরাণ দেখলে পুরো বিষয়টি বোঝা যায় না।

বাংলার ধর্মীয় সংস্কৃতিতে বহু দেবতা ও দেবী প্রথমে স্থানীয় লোকবিশ্বাসের অংশ হিসেবে প্রচলিত ছিলেন। পরে তাঁদের অনেককে বৃহত্তর হিন্দু পুরাণের কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মনসার ক্ষেত্রেও এমন একটি সাংস্কৃতিক বিবর্তন দেখা যায়।

একদিকে তিনি নাগ ও সর্পের সঙ্গে যুক্ত প্রাচীন বিশ্বাসের দেবী। অন্যদিকে পরবর্তী সময়ে তাঁকে পুরাণীয় বংশপরিচয় দেওয়া হয়েছে। তারপর মধ্যযুগীয় বাংলার কবিরা তাঁকে নিয়ে মঙ্গলকাব্য রচনা করেছেন।

ফলে মনসা হয়ে উঠেছেন একই সঙ্গে লোকদেবী, পুরাণীয় দেবী এবং বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র


কেন মনসা পূজা এত জনপ্রিয় হলো?

এর একটি বড় কারণ ছিল মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক।

মনসার কাছে মানুষ প্রার্থনা করত—

  • সাপের কামড় থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য
  • পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য
  • সন্তান লাভের জন্য
  • সন্তানদের সুস্থতার জন্য
  • কৃষি ও গৃহস্থালির মঙ্গল কামনায়
  • রোগ-বিপদ থেকে মুক্তির জন্য

অর্থাৎ মনসা ছিলেন মানুষের খুব কাছের দেবী। তাঁর পূজার জন্য বিশাল মন্দির বা জটিল আচার সবসময় প্রয়োজন হয়নি। অনেক গ্রামীণ অঞ্চলে সাধারণ উপকরণ দিয়েই তাঁর পূজা করা হয়েছে।


মনসার প্রতীক হিসেবে সাপ কেন?

সাপ এখানে শুধু একটি প্রাণী নয়, ভয় ও শক্তির প্রতীক

মানুষ সাপকে ভয় করত, কিন্তু একই সঙ্গে প্রকৃতির শক্তির অংশ হিসেবেও দেখত। তাই সাপকে ধ্বংস করার পরিবর্তে তাকে নিয়ন্ত্রণকারী একটি দেবীকে সন্তুষ্ট করার ধারণা তৈরি হয়।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে মনসা পূজার মধ্যে একটি গভীর লোকদার্শনিক ধারণা দেখা যায়:

যে শক্তিকে মানুষ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, সেই শক্তির সঙ্গে সহাবস্থান করার জন্য মানুষ তাকে দেবত্ব দিয়েছে।

এটি শুধু ধর্মীয় বিশ্বাস নয়; মানুষের প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কের একটি সাংস্কৃতিক প্রকাশও।


শ্রাবণ মাসে মনসা পূজা কেন?

বাংলায় মনসা পূজার সঙ্গে বর্ষাকাল ও শ্রাবণ মাসের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।

বর্ষায় জল বাড়ে, সাপের চলাচলও মানুষের বসতি ও কৃষিজমির দিকে বেশি দেখা যায়। ফলে এই সময়ে সর্পদংশনের আশঙ্কা ঐতিহাসিকভাবে বেশি ছিল।

এই বাস্তবতার সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাস যুক্ত হয়ে শ্রাবণ মাসকে মনসা পূজার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পরিণত করেছে।

অনেক অঞ্চলে নাগপঞ্চমী ও মনসা পূজার মধ্যেও সম্পর্ক দেখা যায়, যদিও অঞ্চলভেদে আচার ও দেবীর পরিচয়ে পার্থক্য রয়েছে।


মনসা পূজায় যা যা লাগে

বাংলায় মনসা পূজার পদ্ধতি অঞ্চল, পরিবার ও সম্প্রদায়ভেদে কিছুটা আলাদা। কোথাও মাটির মনসা প্রতিমা বা ঘট বসিয়ে পূজা হয়, কোথাও শুধু মনসার প্রতীক হিসেবে মনসা গাছের ডাল/পাতা, সাপের প্রতীক বা পট ব্যবহার করা হয়।

একটি সাধারণ গৃহস্থালি পূজার জন্য খুব বেশি উপকরণ দরকার হয় না।

মূল উপকরণ:

  • মনসা দেবীর ছবি, পট বা ছোট প্রতিমা
  • একটি পূজার ঘট
  • আমপাতা
  • নারকেল
  • ফুল
  • দূর্বা ঘাস
  • বেলপাতা
  • ধূপ
  • প্রদীপ
  • তুলা ও তেল/ঘি
  • চন্দন
  • সিঁদুর
  • হলুদ
  • আতপ চাল
  • পান ও সুপারি
  • ফল
  • মিষ্টি
  • নৈবেদ্য
  • গঙ্গাজল বা পরিষ্কার জল
  • একটি পরিষ্কার আসন
  • পূজার জন্য একটি থালা বা পাত্র

অনেক অঞ্চলে দুধ, কলা, মধু, দই ইত্যাদিও নৈবেদ্যের অংশ হয়।

মনসা পূজায় বিশেষ কী লাগে?

মনসা পূজার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সাপ ও সর্পদেবীর প্রতীক

অনেক বাংলার লোকাচারে মনসা পূজার সময়—

  • মনসা গাছের ডাল বা পাতা
  • সাপের প্রতীক
  • মনসার পট
  • মাটির সাপ
  • মনসা দেবীর ছোট প্রতিমা

ব্যবহার করা হয়।

তবে এগুলোর কোনোটিই সব অঞ্চলে বাধ্যতামূলক নয়।


সাধারণ মনসা পূজার ধাপ

১. পূজার স্থান পরিষ্কার করা

প্রথমে পূজার জায়গা পরিষ্কার করে একটি আসন তৈরি করা হয়। অনেক পরিবারে আলপনা দেওয়া হয়।

এরপর দেবীর ছবি, পট বা প্রতিমা স্থাপন করা হয়।

২. ঘট স্থাপন

একটি পরিষ্কার পাত্রে জল নিয়ে তার মধ্যে সাধারণত—

  • আমপাতা
  • নারকেল

দিয়ে ঘট স্থাপন করা হয়।

ঘটের চারপাশে চাল বা আলপনা দিয়ে পূজার স্থান সাজানো যেতে পারে।

৩. সংকল্প

পূজার শুরুতে নিজের নাম, গোত্র এবং পরিবারের মঙ্গল কামনা করে সংকল্প করা হয়।

যেমন, নিজের ও পরিবারের সাপের ভয়, রোগ-বিপদ থেকে রক্ষা এবং মঙ্গল কামনা করা হয়।

৪. গণেশ ও অন্যান্য দেবতার স্মরণ

অনেক প্রচলিত হিন্দু পূজার মতো শুরুতে গণেশের স্মরণ করা হয়। এরপর অন্যান্য দেবতার স্মরণ করে মূল পূজায় যাওয়া হয়।

৫. মনসা দেবীর ধ্যান

এরপর মনসা দেবীকে স্মরণ করে ধ্যান ও প্রণাম করা হয়।

মনসাকে সাধারণত সর্পবেষ্টিত বা নাগের সঙ্গে যুক্ত দেবী হিসেবে কল্পনা করা হয়।

৬. দেবীকে আসন, জল ও উপচার নিবেদন

এরপর একে একে দেবীকে বিভিন্ন উপচার দেওয়া হয়।

যেমন:

আসন → জল → চন্দন → ফুল → ধূপ → প্রদীপ → নৈবেদ্য

প্রথা অনুযায়ী উপচারের সংখ্যা ও ধরন পরিবর্তিত হতে পারে।

৭. ফুল ও দূর্বা নিবেদন

মনসা দেবীকে ফুল, দূর্বা, চন্দন ইত্যাদি নিবেদন করা হয়।

কিছু অঞ্চলে সিঁদুরও নিবেদন করা হয়।

৮. ধূপ ও প্রদীপ

ধূপ জ্বালিয়ে দেবীর সামনে প্রদীপ দেওয়া হয়।

এরপর ভক্তিভরে প্রণাম করা হয়।

৯. নৈবেদ্য

ফল, মিষ্টি, দুধ, কলা, নারকেল, আতপ চাল ইত্যাদি নৈবেদ্য হিসেবে দেওয়া যেতে পারে।

স্থানীয় রীতি অনুযায়ী নৈবেদ্যের ধরন অনেক পরিবর্তিত হয়।

১০. মনসামঙ্গল পাঠ বা কীর্তন

বাংলার ঐতিহ্যবাহী মনসা পূজায় এটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

অনেক জায়গায় মনসামঙ্গল কাব্যের কাহিনি পাঠ বা গান করা হয়।

বিশেষ করে চাঁদ সদাগর, বেহুলা ও লখিন্দরের কাহিনি মনসা পূজার সাংস্কৃতিক অংশ হিসেবে পরিবেশিত হয়েছে বহুদিন ধরে।

১১. আরতি

শেষে প্রদীপ দিয়ে দেবীর আরতি করা হয়।

এরপর সবাই প্রণাম করে এবং নৈবেদ্য প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করে।


একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মনসা পূজার ক্ষেত্রে “একটাই সঠিক পদ্ধতি” বলা কঠিন।

কারণ মনসা মূলত বাংলার শক্তিশালী লোকদেবী। ফলে ব্রাহ্মণ্য শাস্ত্রনির্ভর পূজা, গ্রামীণ লোকাচার এবং পারিবারিক প্রথা একে অপরের সঙ্গে মিশে গেছে।

কোনো পরিবারে পুরোহিত মন্ত্রপাঠ করে পূজা করেন। আবার কোনো গ্রামে পরিবারের নারী বা বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিই সহজ লোকাচারে পূজা করেন।

তাই আপনি যদি বাড়িতে নিজে মনসা পূজা করতে চান, খুব জটিল আচার করার প্রয়োজন নেই। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ভক্তি, ফুল, জল, ধূপ-দীপ ও নৈবেদ্য দিয়ে দেবীকে স্মরণ করাই একটি সহজ গৃহস্থালি পদ্ধতি।

আর একটি বিষয় মনে রাখা ভালো: সাপকে দুধ খাওয়ানো বা সাপ ধরিয়ে পূজা করা ধর্মীয়ভাবে আবশ্যক নয় এবং বাস্তবিক অর্থে সাপের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। মনসা পূজায় সাপের প্রতীক ব্যবহার করাই যথেষ্ট।

মনসামঙ্গল কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

মনসার জনপ্রিয়তা বোঝার ক্ষেত্রে মঙ্গলকাব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মধ্যযুগীয় বাংলায় মঙ্গলকাব্যগুলো স্থানীয় দেবদেবীর মাহাত্ম্য প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক মাধ্যম ছিল। মনসাকে কেন্দ্র করে রচিত মনসামঙ্গল বা পদ্মাপুরাণ সেই ধারার অন্যতম প্রধান উদাহরণ।

এখানে মনসার সঙ্গে চাঁদ সদাগরের সংঘাত শুধু দেবী ও মানুষের গল্প নয়। এর মধ্যে আরও একটি সামাজিক প্রশ্ন আছে:

একজন নতুন বা প্রান্তিক দেবী কীভাবে সমাজের স্বীকৃত দেবী হয়ে উঠলেন?

চাঁদ সদাগরের অস্বীকৃতি এবং শেষ পর্যন্ত মনসার পূজা গ্রহণের কাহিনিকে সেই বৃহত্তর সাংস্কৃতিক প্রক্রিয়ার প্রতীক হিসেবেও দেখা যায়।


ঐতিহাসিকভাবে বিষয়টি এভাবে দেখা যায়

প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সংঘাত → সাপের ভয় → সর্পকেন্দ্রিক লোকবিশ্বাস → সর্পদেবীর উপাসনা → পুরাণীয় পরিচয়ের সঙ্গে সংযুক্তি → মঙ্গলকাব্যে সাহিত্যিক রূপ → বাংলায় ব্যাপক মনসা পূজা।

তবে এটিকে সরল একরৈখিক ইতিহাস হিসেবে নেওয়া ঠিক হবে না। বিভিন্ন অঞ্চলে মনসার উপাসনার উৎপত্তি ও বিকাশ আলাদা পথে হয়েছে।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, মনসা পূজা সম্ভবত কেবল কোনো পুরাণের গল্প থেকে তৈরি হয়নি; বরং বাংলার মানুষের বাস্তব জীবন, প্রকৃতি, ভয়, আশা এবং লোকবিশ্বাসের দীর্ঘ বিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেবী মনসার জনপ্রিয় রূপটি তৈরি হয়েছে।