in 2026, Bangla Blogs

স্মৃতিচারণমূলক দুটো গল্প এবং একটি ফাউ

আমেরি*কা যেতে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার এর বন্ড জমা দিতে হবে এই রকম নিউজ দেখে আমার বন্ড বা সিকিউরিটি মানি এবং আমেরি*কা নিয়ে দুইটা আলাদা আলাদা গল্প মনে পরে গেল।

গল্প ১ – বন্ড বা সিকিউরিটি মানিঃ

বুয়েটে ভর্তি হওয়ার সময় একটা বন্ড বা সিকিউরিটি টাকা জমা দেওয়া লাগে। পাশ করার পর সব হল এবং সব ল্যাব থেকে ক্লিয়ারেন্স এনে কাগজ জমা দিলে তখন সেই সিকিউরিটি মানি ফেরত দেয়। আমি রেজাল্ট পাবলিশ(পাশ করার পর রেজাল্ট গেজেট আকারে পাবলিশ এবং সার্টিফিকেট তোলার জন্য অনেক গুলো স্টেপ ফলো করা লাগে ) করিয়েছিলাম পাশ করার ১০ বছর পর। তখন মনে হল আমার সিকিউরিটি মানি তোলা লাগবে। মনে পরে গেল হল ছেড়ে দেওয়ার সময় আমার সব কিছু ক্লিয়ারেন্স এনে দেওয়ার জন্য হলের কর্মচারী এক দাদাকে টাকা দিয়েছিলাম কিন্তু সেই মহামূল্যবান কাগজটা নেওয়া হয়নি। রেজাল্ট পাবলিশ এর সময় গেলাম হলে, উনাকে পেলাম। উনি অনেক খুঁজে বের করে দিলেন। কাগজটার অবস্থা বেশ খারাপ। ত্যানা ত্যানা হয়ে গেছে। যাই হোক রেজাল্ট পাবলিশ এবং সব ধরনের সার্টিফিকেট তুলে আনলাম বছর ১০ পর হলেও(যদিও এর জন্য আমার ওয়াইফ এর অনুপ্রেরনা এবং ক্রমাগত প্রেসার এর অবদান উল্লেখ না করলেই না)।

এবার বন্ড বা সিকিউরিটি মানির টাকা তোলার পালা। সেই ত্যানা হয়ে যাওয়া ক্লিয়ারেন্স এর কাগজ নিয়ে গেলাম রেজিস্টার বিল্ডিং এর কাংখিত রুমে। কাগজটা হাতে নিয়ে মহিলা অফিসার বল্লেন, আপনি এই কাগজ কোথায় পেলেন! এত বছর পর! আপনার টাকা তো মনে হয় আর নাই বা অন্য ফান্ডে চলে গেছে! যদি পাওয়া যায় আশা দিয়ে উনি কাগজটা রেখে দিলেন।

আমি আর সেই বন্ডের টাকা পাইনি! আর আর যাইনি। পাশ করার পর আমার বুয়েটে যেতে তেমন কোন ইচ্ছাই করত না।

গল্প ২ – আমেরি*কাঃ

বুয়েট থেকে পাশ করার আগেই আমি একটা চাকরি করতাম। চাকরিটা ছিল গ্রামীন এর আইটি ফার্ম গ্রামীন সলুশন লিমিটেডে। মূলত গ্রামীন সম্পর্কে ওই সময় আমার জানা, এর আগে গ্রামীন নামে কোন প্রতিষ্ঠান আমার জানা ছিল না। ইউনুস সাহেব তখন নোবেল পান, অফিস বিল্ডিং এর নিচে নোবেল দেখার জন্য লাইন লেগে থাকত। আমি আমার জীবনের প্রথম এবং শেষ চাকরি ঐ একটাই করেছি। এটা ছিল পুরা ৬ মাসে , ২০০৮ এর জানুয়ারি থেকে ৬ মাস পর আমি ছেড়ে দেই। যাই হোক, চাকরির কাজ এর জন্য ট্রেনিং এ আমেরি*কা পাঠানোর আলোচনা চলছিল। আমি ‘রুবি’ নামের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ বেশ পপুলার হয়েছে আর এটার ‘রেইলস’ ফ্রেমওয়ার্ক বেশ হাইফ তুলেছিল। অফিস থেকে ৬জনকে আমেরি*কা পাঠাবে এটা শেখার জন্য। আমি ঐ টিমে সুযোগ পেলাম। কিন্তু চাকরি করে আমার বুয়েট শেষ হচ্ছিল না। আমি চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলাম সিটিও মহাশয় এর সাথে কথা বলে। আমার রিপোর্টিং ম্যানেজার অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল, আপনি আমেরি*কা যাবেন না! আমি বলেছিলাম না। আমি আর কোথাও যাইনি। অবাক করা ব্যাপার হল সেই ৬ জনের টিম বা যে টিম এর আমেরি*কা যাবার কথা ছিল তারা আর পরে কেউ যায়নি বা পাঠানো হয়নি।

বোনাস গল্পঃ
বুয়েটের আহসানুল্লাহ হলে শুরুতে আমার রুমে দুইজন সিনিয়র ছিলেন, একজন আমেরি*কা যাবার জন্য পাগল ছিলেন, উনি ঠিক মত লেখাপড়া বা ক্লাস করতেন না বা উনার ভালো লাগত না। তার ধ্যান জ্ঞান ছিল আমেরি*কা যাবার। একদিন বলেছিলেন, আমেরি*কা একটা কুকুরও ভালো বা এই রকম কিছু। উনাকে আমার ভালোই লাগত। উনি একবার হঠাৎ করে বুয়েট ছেড়ে দিলেন দুই এক সেমিষ্টার পর, এরপর সম্ভবত প্রাইভেট কোন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছিলেন। দাদার ডাক নাম ছিল সঞ্জু দা। একদিন সঞ্জু দার সেই আমেরি*কার একটা কুকুরও ভালো ব্লা ব্লা … এই ডায়লগটা আমার এখনো কানে বাজে।

বন্ড বা সিকিউরিটি মানি এবং আমেরি*কা আপনার কোন গল্প থাকলে শেয়ার করেন।।