গতকাল ২৫শে মার্চ গেল, আজকে ২৬শে মার্চ আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস।
আপনারা যানেন পদ্মা সেতু হয়ে যে রাস্তা দিয়ে ঢাকা যাতায়াত করা হয় সেই রাস্তায় ঘাড়ির সর্বোচ্চ গতি ৮০। মাঝে মাঝে রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ গতি বেশির জন্য জরিমানা করে। এখন প্রশ্ন করতে পারেন, কোন গাড়ি ৮০ এর উপর টানছে কিনা এইটা কি ট্রাফিক পুলিশ চোখের আন্ধাজে বুঝে? উত্তর হচ্ছে, না। একটা যন্ত্র আছে যা দিয়ে পরিমাপ করে।
এখন আপনি আবার পালটা প্রশ্ন করতে পারেন, ৭১ এ ৩০ লাখ লোক মারা গেছিল এইটা কি একটা একটা করে কেউ গুনছে। না দাদা ভাই, এই ভাবে কেউ গুনে নাই। কিন্তু এই গুনারও কিছু নিয়ম আছে। এইটা গুনে ৩০ লাখ একজন কম হলেও এইটা ৩০ লাখ, এক লাখ কম হলেও এইটা ৩০ লাখ। এই সব নিয়ে বিস্তর গবেষনা, লেখা, বই, ব্লগ আর্টিকেল আছে। আপনাকে খালি পড়তে হবে।
আপনি আবার আমারে থামায় জিজ্ঞাসা করতে পারেন, স্বাধীনতার ঘোষনা কে দিয়েছে, কেন দিয়েছে, কোন দিন দিয়েছে, কবে কবে কয় বার করে দিয়ে, প্রথম কে দিয়ে, ২য় কে দিয়েছে ইত্যাদি। এইগুলো নিয়ে পড়ালেখা করেন।
আরো অনেক প্রশ্ন করতে পারেন কিন্তু প্রশ্ন না করে উত্তর করেন, মানে নিজে নিজে উত্তর খুঁজেন। বলতে পারেন, ফাজলামি করেন, এত কিছু কেমন পড়ব। আরে ভাই আমরা যখন ২০০২ সালে প্রোগ্রামিং শেখা শুরু করেছিলাম আমরা প্রোগ্রামিং এর বই পড়ে পড়ে শিখেছিলাম। এখন তোমরা বই যে পড়া লাখে এটা শুনেই হাসো। এখন মোটা কও আর চিকন কও যেই দাগেই কও, জানতে হলে পড়তে হবে।
তবে সঠিক ভাবে জানার জন্য তুমি কোন রাজনৈতিক দল কর বা কোন দল এর আদর্শ দ্বারা প্রভাবিত কিংবা কোন দলের প্রতি তোমার সফটকর্নার আছে এইটা এক পাশে রেখে পড়, তাইলেই বুঝতে পারবা। ইতিহাস কিন্তু ইতিহাস, এইটা কিন্তু নিজের চিন্তাকে ইতিহাস হিসাবে সেট করা না। ধর, তুমি জানো তোমার বাবা বিরাট ভালো মানুষ কিন্তু ইতিহাসে আছে তিনি চোর ছিলেন, তাইলে তিনি চোরই ছিলেন। জোর করে ইতিহাসে নিজের বাবাকে ভালো মানুষ সেট করা যায় না।
এখন কইতে পারেন কোন ইতিহাস ঠিক? এটা বুঝার জন্য নিজের মনকে ব্যবহার কর, নিজের মননকে কাজে লাগাও। অন্যের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে নিজের মননকে প্রশ্রয় দাও।
পুনশ্চঃ গাড়ির গত ট্রাফিক পুলিশ কিন্তু একটা যন্ত্র দিয়ে দেখে মাপে। প্রতিটি জিনিস জানা বুঝার কিছু তরিকা আছে সেই তরিকায় পড় এবং জানো।